সবাইকে কাঁদিয়ে ৭০ বছর বয়সে চিরতরে চলে গেলেন চলচ্চিত্র-ব্যক্তিত্ব বুলবুল আহমেদ (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে নাতি-নাতনি, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বুধবার ১৪ জুলাই মধ্যরাতে তিনি অত্যন্ত অসুস্থতা বোধ করেন। বেশ দ্রুতই তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ছেলে শুভ ও মেয়ে তিলোত্তমা দেশের বাইরে থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার ১৫ জুলাই তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়নি। আজ শুক্রবার ছেলেমেয়েদের দেশে ফেরার কথা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাদ জুমা এফডিসিতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে প্রথম জানাজা হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বিটিভিতে। সেখান থেকে আজিমপুর কবরস্থানে দ্বিতীয় জানাজার পর মরদেহ দাফন করা হবে।
বুলবুল আহমেদ দীর্ঘদিন থেকেই হূদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও বহুমূত্রসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। একাধিকবার তাঁকে ইউনাইটেড ও স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে চিকিৎসা শেষে ফিরে এলেও এবার চির বিদায় নিয়ে গেলেন তিনি।
আশির দশকের রুপালি পর্দা কাঁপানো এই অভিনেতা ইয়ে করে বিয়ে চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি একাধিক টিভি নাটকেও অভিনয় করে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সর্বশেষ তিনি দুই নয়নের আলো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এ ছাড়া নিজের পরিচালনায় বাবার বাড়ি নামে একটি ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতার জন্য কাজটি শেষ করতে পারেননি।
শোক: প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেতা বুলবুল আহমেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবাণীতে তাঁরা বলেন, অভিনয় জগতে বুলবুল আহমেদ ছিলেন অতুলনীয় প্রতিভাবান। দেশে সুস্থধারার চলচ্চিত্রের বিকাশে তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার মো. আবদুল হামিদ এক শোকবাণীতে বলেছেন, ‘বুলবুল আহমেদের মৃত্যুতে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। স্পিকার মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক শোকবাণীতে বলেছেন, বুলবুল আহমেদের মৃতুতে দেশ এক বলিষ্ঠ অভিনেতাকে হারালো। তাঁর চলে যাওয়া শিল্পীসমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। দেশ তার এক যোগ্য সন্তানকে হারালো। তিনি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এ ছাড়া সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, তথ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া বুলবুল আহমেদের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি, পরিচালক সমিতি, শিল্পী সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা, বিশ্ব কবিতাকণ্ঠ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
Source: Website
Add a comment









