Interviews
ভাললাগা, ভালবাসা, অতঃপর.................
বিনোদন জগতে দুইজন দুই ভুবনের বাসিন্দা। কিন্তু বর্তমানে দাম্পত্য জীবনে দুজইন একই ঘরের ছাদের নীচে সুখী সংসার যাপন করছেন। একজন পর্দার আড়ালের মানুষ। আর অন্যজনের সরব উপস্থিতি পর্দার সামনে। একজনের ব্যস্ত সময় অতিবাহিত হচ্ছে ফ্যাশন জগতের মডেলদের এক একটি মুহুর্ত ক্যামেরায় বন্দী করার মধ্য দিয়ে। আর অন্যজনের ব্যস্ততার পরিসীমা জুড়ে বিজ্ঞাপন চিত্রের কাজ। এদের একজন হচ্ছেন ফ্যাশন ফটোগ্রাফার সাফাওয়াত খান সাফু। যিনি সদা হাস্যউজ্জল এবং কিছুটা লাজুক প্রকৃতির। আর অন্যজন লাক্স চ্যানেল আই সুপার ষ্টার প্রতিযোগিতা ২০০৯ এর দ্বিতীয় রানার আপ এবং পরবর্তীতে মডেল হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রেবেকা সুলতানা দীপা।
বেশ কিছু দিন আগে ২০০৯ সালের ২৩শে অক্টোবর তারিখে দুজনই ভালবেসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। মজার বিষয় হচ্ছে দুজনই নিজেদের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন বিনোদন জগতের কাউকে বিয়ে না করার। কিন্তু দুজনই এমন সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ না দিয়ে বর্তমানে সুখী সংসার জীবনে একজন আর একজনের সহযাত্রী।
সাফাওয়াত খান সাফু এবং রেবেকা সুলতানা দীপাকে একই ফ্রেমে বন্দী করার মূলে ভালবাসার ভূমিকা অন্যতম। দুজনের মধ্যে ভালবাসার সূত্রপাত পরিচিত হবার মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালের লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগীতার পর দৈনিক ভোরের কাগজের জন্য ফটোসেশন করতে গিয়ে সাফাওয়াত খান সাফুর সাথে রেবেকা সুলতানা দীপার প্রাথমিক পরিচয় হয়। তখন থেকেই এস.কে. সাফুর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ফটোসেশনে আর.এস দীপা অংশগ্রহণ করেন। এভাবেই কাজ করার সুবাদে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরী হয়।
বন্ধুত্বের ধরণটা কেমন ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে এস.কে. সাফু বলেন, দীপার সাথে বন্ধুত্ব বলতে আমরা দুজনই ফোনালাপে নিজেদের খোজখবর রাখতাম। বিভিন্ন কাজের কথা দুজনই শেয়ার করতাম। বিশেষ করে আমি যেহেতু মিডিয়া লাইনে সিনিয়ার ছিলাম তাই দীপা মিডিয়াতে যে কোন কাজ করার আগে আমার সাথে আলোচনা করে নিত। বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনেকটা এমনই ছিল। এস.কে. সাফু যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন আর.এস. দীপা ছিলেন খুবই হাস্যউজ্জল। হয়তো এই হাসি এস.কে. সাফুর কথাগুলোর প্রতি হাস্যউজ্জল সমর্থন এবং ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।
ভালবাসার বিষয়টি যখন এসেই পড়লো তখন আর.এস. দীপার কাছে আমার প্রশ্ন- কখন বুঝতে পারলেন এস. কে. সাফুকে ভালবাসতে শুরু করেছেন ?
"সত্যি বলতে আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই সাফুই প্রথম আমাকে তার ভাল লাগার কথাটি জানায়। একদিন ও আমাকে এসে বলে, বিয়ে করার জন্য কেমন ছেলে তোমার পছন্দ। আর ছেলে হিসেবে আমিইবা কেমন। সাফুর এমন কথা শুনে আমি কিছুটা অবাক হই। কারন ও আমার মনের কথাটিই যেন বলে দিল।"
আর. এস. দীপার এমন কথায় এস. কে. সাফু দ্বিমত পোষণ করেন নি। হয়তো এটিও ভালবাসার নীরব বহিঃপ্রকাশ।
পরিমাণের দিক থেকে কে কাকে বেশী ভালবাসেন এমন প্রশ্নের উত্তরে আর.এস.দীপা এস.কে. সাফুকে এগিয়ে রাখলেন। রেবেকা সুলতানা দীপার মতে সাফাওয়াত খান সাফু সবচেয়ে বেশী ভালবাসেন। (অবয়ব জুড়ে সন্তুষ্টির হাসি)।
আর. এস. কে সাফু বলেন, দীপাও আমায় ভীষণ ভালবাসে। ওর ভালবাসায় আমি মুগ্ধ।
দুজনের এমন কথাগুলো শুনে মনে হল যেন ডুবে ডুবে জল খাওয়ার পর প্রমানস্বরূপ ভালবাসা ভেসে উঠলো।
ভালবাসার একটি বিশেষ ভাষা থাকে, তা হচ্ছে রোমান্টিকতা। এই বিষয়ে প্রশ্নটি করতে চাইছি রেবেকা সুলতানা দীপার কাছে। তা হচ্ছে আপনার দৃষ্টিতে এস.কে সাফু কতটা রোমান্টিক মনের মানুষ?
দীপা বলেন, ওকে দেখলে কিন্তু মনে হয়না ওর মধ্যে যে রোমান্টিক বোধটা আছে। কিন্তু ও ভীষণ রোমান্টিক মনের অধিকারী। ভালবাসার মানুষ হিসেবে ওর এমন রোমান্টিক আচারণের একমাত্র দর্শক আমিই।
এরপর আপনাদের দুজনের কাছে আমার একই প্রশ্ন, তা হচ্ছে একজন আর একজনকে বুঝতে পারার দিক থেকে আপনারা দুজন কতটা সফল?
এই বিষয়ে এস. কে সাফু বলেন ও আমাকে ভাল বুঝতে পারে। ওকে ভীষণ ভালবাসার হয়তো এটিই অন্যতম কারন। সর্বপরি দুজনেরই ভাল লাগে এমন কিছু করার জন্যে আমরা দুজনই সবসময় সচেষ্ট থাকি।
অন্যদিকে একই বিষয় নিয়ে আর.এস দীপা বলেন ও আমাকে বুঝতে চেষ্টা করে এটা না বলে বলবো ও আমাকে বুঝতে পারে। ওর এ দিকটা আমার ভাললাগে। আমার ইচ্ছে কিংবা যে কোন বিষয়ে আমার মতামতকে ও খুবই গুরুত্ব দেয়। যা ভালবাসার মধ্যে থাকা উচিত।
পরিবেশটা যখন প্রবল ভালবাসার। তখন সেই পরিবেশে একজন কিন্তু কোন একটি বিষয়ে অবাধ্য থাকে।
এমন বিষয়ে আর.এস.দীপা বলেন ও আমাকে সময়মতো সময় দিতে পারেনা। ওর ৭টা মানে ৭ টা। এজন্য সময়ের প্রতি ও অবাধ্য। তবে এজন্য ওর ব্যস্ততা দায়ী।
এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এস.কে. সাফুকে কিছু বলার সুযোগ দেয়া হলে বলেন, আমারতো দুটি ষ্টুডিওতেই সময় দিতে হয়। একটি ধানমন্ডি। অন্যটি মগবাজার। তাই বেশীর ভাগ সময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এবং সময়মতো অনেক কিছু করা হয়ে উঠেনা। এমনকি বিয়ের আগের দিন বাসায় ঘরোয়াভাবে আমার গায়ে হলুদ আয়োজন করা হয়েছিল। যা আমি জানতামই না। কাজ শেষ করে রাতের দিকে বাসায় গিয়ে শুনি আমার গায়ে হলুদ হবে। যাই হোক পরে অপ্রস্তুত অবস্থায় গায়ে হলুদ পর্বটি আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত করলাম।
ভাগ্যিস আপনি বিয়ের দিন অন্তত জানতেন আজ আপনার বিয়ে হবে। না হয় অপ্রস্তুত থেকেই বিয়ে করতে হত।
যাই হোক এখন বলুন দীপা সম্পর্কে আপনার কি অভিযোগ।
এস.কে. সাফু বলেন, আসলে আমি এখন পর্যন্ত ওর কোন দোষ খুঁজে পাইনি। তবে একটি বিষয়ে আমার অসন্তুষ্টতা আছে। তা হচ্ছে ও আমাকে সকালে ঘুমাতে দেয় না।
এস. কে. সাফুর এমন কথা শুনে উপস্থিত আমাদের সবার মধ্যে ব্যাপক হাসির সঞ্চার ঘটে।
আমি আমার হাসির গতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে যে প্রশ্নটি করতে চাই তা হল, বিয়ের আগে ভালবাসা আর বিয়ের পরের ভালবাসার মধ্যে কিভাবে পার্থক্য করবেন।
এ প্রশ্নের উত্তরে আর.এস.দীপা বলেন, বিয়ের আগে অনেক স্বাধীনতা থাকে। যা ইচ্ছে করা যায়। কিন্তু বিয়ের পরে দায়িত্ববোধ বেড়ে যায়। তখন অনেক কিছুই বুঝে শুনে করতে হয়।
আর এই বিষয়ে এস.কে সাফু বলেন বিয়ের আগের ভালবাসা আনঅফিশিয়াল জব। আর বিয়ের পরের ভালবাসা অফিশিয়াল জব।
আপনার কথা শুনে বিষয়টি দাঁড়াচ্ছে এনেকটা এমন। বিয়ের আগের ভালবাসা আত্মস্বীকৃত এবং বিয়ের পরের ভালবাসা সমাজস্বীকৃত। আমার এমন কথায় দুজনই মৌখিকভাবে কিছু না বললেও মাথা নাড়িয়ে দুজনই বোধয় হ্যাঁ সূচক বললেন।
যাই হোক আমার পরবর্তী প্রশ্নটি হচ্ছে আপনারা যেহেতু ভালবেসে বিয়ে করেছেন। সেক্ষেত্রে ভালবেসে বিয়ে করা নাকি বিয়ে করে ভালবাসা উচিত বলে আপনাদের ধারনা?
এই বিষয়ে দীপা জানালেন, আমার কাছে দুটিই ভাল। কারন বিয়ের আগে থেকে ভালবাসা থাকলে একজন মানুষকে অনেক বেশী জানার সুযোগ থাকে। আর বিয়ের পরে যে মানুষটির সাথে সারাটা জীবন কাটাতে হবে তখন অবশ্যই ঐ মানুষটার প্রতি ভালবাসাটা অনেক বেড়ে যায়। আমার দিক থেকে দুটিই ভাল এবং কার্যকরী।
ভালবাসা বিষয়ক প্রশ্ন পর্বের প্রায় শেষ দিকে চলে এসেছি। আমার এ প্রশ্নটিও রেবেকা সুলতানা দীপার কাছে।
মানুষ হিসেবে আপনার কাকে বেশী ভাল লাগে-
১. ফটোগ্রাফার এস.কে. সাফু ২.প্রেমিক এস.কে. সাফু ৩. হাজবেন্ড এস.কে. সাফু ৪. প্রেমিক হাজবেন্ড এস.কে. সাফু
দীপা বললেন, "আমি বলবো প্রেমিক হাজবেন্ড। কারন ওর মধ্যে দুটোরই ভাল কম্বিনেশন আছে।"
এই নবদম্পতির কাছে সর্বশেষ প্রশ্ন- আপনারা প্রেমিক প্রেমিকাদের উদ্দেশ্য করে বলুন।
এই বিষয়ে দুজনের কথা সার সংক্ষেপ অনেকটা এমন- ভালবাসার মধ্যে অবশ্যই গন্তব্য থাকতে হবে। সেই গন্তব্যকে লক্ষ করে দুজনের মধ্যে ভালবাসা গড়ে উঠবে। আর ভালবাসার মানুষদের মধ্যে বিশ্বাস, শ্রদ্ধবোধটা থাকতে হবে। একজন আর একজনকে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। আর এমন ভালবাসাই পবিত্র একটি বন্ধন সৃষ্টি করতে সক্ষম।
আর এস. কে. সাফুর মতে এ ধরনের ভালবাসায় যেমন মানসিক প্রশান্তি রয়েছে তেমনি এটি স্বাষ্থ্যসম্মতও বটে।
দুইজনের এমন কথাগুলো আশা করি দিক হারা প্রেমিক প্রেমিকাদের গন্তব্য খুঁজে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
পরিশেষে অফষ্টেজকে সময় দেয়ার জন্য দুজনকে ধন্যবাদ এবং আপনাদের প্রতি রইল শুধুই শুভকামনা।
Comments
Posted On
Feb 23, 2010Posted By
Posted On
Feb 23, 2010Posted By
Posted On
Feb 21, 2010Posted By
Posted On
Feb 20, 2010Posted By
meher nowrojPosted On
Feb 19, 2010Posted By
Posted On
Feb 19, 2010Posted By
Posted On
Feb 17, 2010Posted By
Posted On
Feb 17, 2010Posted By
congrats to safu bhai and vabi !!
Posted On
Feb 15, 2010Posted By
Mashud AhmedPosted On
Feb 15, 2010Posted By
RSS feed for comments to this post.